দশ বছর আগে চীনে খাত বেছে নেওয়া বিনিয়োগকারী প্রায়ই বাধার কথা জানতেন কেবল আবেদন নাকচ হওয়ার পর। অনুমানের সেই খেলা শেষ — নিয়মগুলো এখন আগেভাগেই প্রকাশিত। মোড় ঘুরেছে ২০২০ সালে। সে বছরের ১ জানুয়ারি বিদেশি বিনিয়োগ আইন (中华人民共和国外商投资法, Foreign Investment Law, FIL; রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৬) কার্যকর হয়। তখন থেকে বিদেশি পুঁজির প্রবেশ দুটি ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে: জাতীয় আচরণ (national treatment) এবং একটি একক প্রকাশ্য তালিকা, যেখানে লেখা আছে কোন কোন ক্ষেত্রে এই আচরণ প্রযোজ্য নয় — এটিই নেগেটিভ লিস্ট (নেতিবাচক তালিকা)।
মূল সমস্যা:
“নিংবোতে আমাদের উৎপাদন প্রকল্প যৌথ উদ্যোগ হিসেবে ছয় মাস ধরে প্রস্তুত করেছিলাম — নিশ্চিত ছিলাম, বিদেশির আর কোনো পথ নেই। নিবন্ধনের সময় দেখা গেল, আমাদের খাত অনেক আগেই ১০০% উন্মুক্ত। চীনা অংশীদার কাঠামোয় বাড়তি হয়ে গেল, কিন্তু তাকে বের করতে আরও কয়েক মাস আর টাকা লাগবে।”
তালিকার পুরোনো সংস্করণের ওপর ভরসা করা উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আমরা সবচেয়ে বেশি এ ধরনের প্রশ্নই পাই।
নেগেটিভ লিস্ট কীভাবে ঠিক করে কে প্রবেশ করবে
নীতিটা দুই বাক্যে বলা যায়। তালিকায় আপনার ব্যবসার উল্লেখ না থাকলে চীনা কোম্পানির জন্য যে নিয়ম, আপনার জন্যও তা-ই। উল্লেখ থাকলে আপনি বিশেষ নিয়মের আওতায় পড়বেন। চলুন দুটি পরিস্থিতিই দেখি, আর জেনে নিই কীভাবে হোঁচট না খেয়ে নথিটি পড়বেন।

জাতীয় আচরণ ও নেগেটিভ লিস্ট
জাতীয় আচরণকে বিনিয়োগের আগে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি হিসেবে ভাবুন: চীনা উদ্যোক্তা যে মানদণ্ড ও আইনি সুরক্ষা পান, আপনিও তা-ই পাবেন। তালিকা চিহ্নিত করে কোথায় এই প্রতিশ্রুতি স্থগিত থাকে — এবং এর প্রভাব পড়ে প্রবেশের মুখেই, পরে নয়। ধরুন একটি প্রকল্প তালিকাভুক্ত খাতে পড়ে, কিন্তু পাশে লেখা শর্ত পূরণ করে না। ফল সোজা: অনুমতিপত্র মিলবে না, কোম্পানির নিবন্ধনও হবে না। এটা কোনো ব্যাখ্যা নয় — তালিকার সঙ্গে দেওয়া টীকার ৪ নম্বর দফায় স্পষ্ট করে এ কথা বলা আছে। নিবন্ধন কে করে? স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, যারা রাষ্ট্রীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের (SAMR, 国家市场监督管理总局) অংশ। আপনার ব্যবসা তালিকায় না থাকলে বিশেষ কিছু ঘটে না: যেকোনো দেশীয় বিনিয়োগকারীর মতো নিবন্ধন করেন, আর কোম্পানি নিবন্ধন ব্যবস্থা আপনার বিনিয়োগের তথ্য বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয় (FIL-এর ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদ)।
নিষেধ ও সীমাবদ্ধতা: দুটি আলাদা দরজা
তালিকায় দুই ধরনের ব্যতিক্রম আছে, আর এ দুটো গুলিয়ে ফেলার দাম চড়া। প্রথমটি তালাবদ্ধ দরজা: বিদেশি পুঁজির ঢোকার কোনো পথ নেই, নিবন্ধনের আবেদন নাকচ হবে। দ্বিতীয়টি এমন দরজা, যা সঠিক চাবিতে খোলে। সেই চাবি হতে পারে চীনা অংশীদারের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার, যৌথ উদ্যোগ (JV) গঠনের বাধ্যবাধকতা, অথবা চীনা নাগরিক আইনি প্রতিনিধি। আরেকটি প্রভাব: যেখানে শেয়ারের শর্ত আছে, সেখানে বিদেশি বিনিয়োগযুক্ত অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের (外商投资合伙企业) বিকল্পও হারান। তাই প্রথমেই ঠিক করুন: সামনে “কখনো না”, নাকি “শুধু এই শর্তে”।

পুরোপুরি বন্ধ খাত: যেখানে আপনাকে না বলা হবে
নিষেধের দফাগুলো তালিকার কঠিন কেন্দ্র। তালিকা ছোট করার সময় এগুলোতে হাত পড়ে সবার শেষে, কারণ এগুলো এমন ক্ষেত্র রক্ষা করে যেগুলোকে রাষ্ট্র নিরাপত্তা ও মতাদর্শের বিষয় মনে করে।
কৌশলগত ও স্পর্শকাতর খাত
শুরু করা যাক মাটির নিচ থেকে। টাংস্টেন, বিরল মৃত্তিকা ধাতু ও তেজস্ক্রিয় খনিজ পুরো শৃঙ্খলজুড়ে বিদেশি মালিকের নাগালের বাইরে — মজুত অনুসন্ধান থেকে উত্তোলন ও আকরিক পরিশোধন পর্যন্ত। এরপর চিঠি: আপনি ডাকসেবা চালাতে পারবেন না, চীনের ভেতরে চিঠির এক্সপ্রেস ডেলিভারিও নয়। আর শেষে তামাক: পাইকারি বা খুচরা — বিক্রি আপনার জন্য বন্ধ। এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বিদেশি মালিককে নিজের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে বেমানান মনে করে। তালিকার ভারসাম্যই অনেক কিছু বলে: বর্তমান ২৯টি দফার মধ্যে ২০টি পূর্ণ নিষেধ, সীমাবদ্ধতা মাত্র ৯টি।

গণমাধ্যম, ইন্টারনেট ও প্রকাশনা
কনটেন্ট হলো দ্বিতীয় বড় বন্ধ এলাকা। সংবাদ সংস্থার মালিক হতে পারবেন না। ইন্টারনেটে বিদেশি পুঁজিকে অনলাইন গণমাধ্যম এবং অডিও-ভিডিও অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সেবা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। প্রকাশনায় সম্পাদকীয় অংশ আপনার জন্য বন্ধ। শিক্ষারও নিজস্ব ব্যতিক্রম আছে: বাধ্যতামূলক শিক্ষা (১ম–৯ম শ্রেণি) এবং ধর্মীয় শিক্ষা। এর কোনোটিই টাকার ব্যাপার নয় — রাষ্ট্র নিজেই ঠিক করতে চায় মানুষ কী পড়বে, দেখবে ও শিখবে। অনেক বিনিয়োগকারী VIE (variable interest entity) কাঠামো দিয়ে পাশের দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন — শেয়ারের বদলে চুক্তির জাল। এই ব্যবস্থা আইনি ধূসর এলাকায় থাকে এবং নিয়ন্ত্রকের চর্চা বদলালেই ভেঙে পড়তে পারে। তালিকা নিজেই এ ধরনের কোম্পানির জন্য স্পষ্ট নিয়ম দিয়েছে। নিষিদ্ধ খাতে কাজ করা কোনো কোম্পানি বিদেশি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাইলে আগে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সম্মতি লাগবে; তার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যবস্থাপনায় অংশ নেবেন না, আর তাদের শেয়ার পোর্টফোলিও বিনিয়োগের নিয়মে সীমিত থাকবে। এটি টীকার ৬ নম্বর দফায় আছে।
সীমিত খাত: শেয়ার, কাঠামো ও নাগরিকত্ব
সীমাবদ্ধতা খাতটিকে খোলা রাখে, তবে আপনার প্রবেশে একটি দামের ট্যাগ লাগিয়ে দেয়। খাত ধরে ধরে সেই দাম দেখে নিন।

| খাত | আপনার প্রবেশমূল্য | নিয়মের ধরন | আপনার ওপর প্রভাব |
| চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান | যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন | কেবল JV | সাধারণত ১০০% WFOE সম্ভব নয়; তবে সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে একটি পাইলট কর্মসূচি বেইজিং, তিয়ানজিন, সাংহাই, নানজিং, সুচৌ, ফুচৌ, গুয়াংজু, শেনজেন ও পুরো হাইনানে সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানার হাসপাতালের অনুমতি দেয় — দুটি ব্যতিক্রমসহ: প্রথাগত চীনা চিকিৎসার হাসপাতাল নয়, আর সরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ নয় |
| প্রাক-প্রাথমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা | কেবল যৌথভাবে প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবেন; প্রধানকে চীনা নাগরিক হতে হবে, পরিচালনা পর্ষদের অন্তত অর্ধেক আসন চীনা সদস্যদের | চীনা নেতৃত্ব (中方主导) | বড় ব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্তে শেষ কথা অংশীদারের |
| বেসামরিক বিমানবন্দর | চীনা শেয়ার সব অংশীদারের মধ্যে সবচেয়ে বড় হতে হবে | আপেক্ষিক চীনা নিয়ন্ত্রণ (中方相对控股) | আপনার ভেটো নেই; বিদেশিরা বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার নির্মাণ বা পরিচালনা করতে পারে না |
| বিমান পরিবহন | আইনি প্রতিনিধি চীনা নাগরিক; এয়ারলাইনে চীনা নিয়ন্ত্রণও লাগবে, আর একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী তার সহযোগী কোম্পানিসহ সর্বোচ্চ ২৫% রাখতে পারেন | নাগরিকত্বের নিয়ম | ব্যবস্থাপনা চলে যায় স্থানীয় ব্যক্তির হাতে |
| গমের বীজ | নতুন গমের জাত উদ্ভাবন ও বীজ উৎপাদনে অংশীদার পান অন্তত ৩৪%; ভুট্টায় নিয়ন্ত্রণ চীনা পক্ষের | ন্যূনতম চীনা শেয়ার | মূলধনের এক-তৃতীয়াংশ আইনত আপনার হাতছাড়া হয় |
| মূল্য সংযোজিত টেলিকম | আপনার শেয়ার ৫০%-এ থেমে যায় (ই-কমার্স, দেশীয় বহুপক্ষীয় যোগাযোগ, স্টোর-অ্যান্ড-ফরোয়ার্ড ও কল সেন্টার এই সীমার বাইরে) | বিদেশি শেয়ারের সর্বোচ্চ সীমা | প্রবৃদ্ধি “কাচের ছাদে” ধাক্কা খায় |
| মৌলিক টেলিকম | অর্ধেকের বেশি শেয়ার চীনা হাতে | চীনা নিয়ন্ত্রণ | আপনি পরিচালনায় কণ্ঠহীন সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার |
টেলিকম: ৫০% সীমা এবং চার এলাকায় পাইলট
মূল্য সংযোজিত টেলিকমে দেখা যায়, একটি সীমাবদ্ধতা কীভাবে টুকরো টুকরো করে খুলে নেওয়া হয়। আপনার শেয়ারের স্বাভাবিক সীমা কোম্পানির অর্ধেক। শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MIIT, 工业和信息化部) ৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখের এবং ১০ এপ্রিল প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির (工信部通信函〔2024〕107号) মাধ্যমে চার জায়গায় এই সীমা সরিয়েছে। জায়গাগুলো হলো: বেইজিংয়ের সেবা খাত উন্মুক্তকরণের সমন্বিত প্রদর্শনী এলাকা; সাংহাইয়ে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের লিংগাং নিউ এরিয়া ও পুডং; হাইনান মুক্ত বাণিজ্য বন্দর; এবং শেনজেন।
সেখানে চার গুচ্ছ সেবায় পূর্ণ মালিকানা সম্ভব:
- অবকাঠামো: IDC ডেটা সেন্টার (ক্লাউড রিসোর্সসহ), CDN এবং ইন্টারনেট অ্যাক্সেস (ISP);
- প্রক্রিয়াকরণ: অনলাইনে ডেটা ও লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ;
- কনটেন্ট: তথ্য প্ল্যাটফর্ম ও কনটেন্ট সরবরাহ, অ্যাপ স্টোরসহ — তবে ইন্টারনেট সংবাদ, অনলাইন প্রকাশনা, অডিও-ভিজ্যুয়াল অনুষ্ঠান ও ইন্টারনেট সংস্কৃতি বাদে;
- নিরাপত্তা: তথ্যের সুরক্ষা ও প্রক্রিয়াকরণ।
দুটি শর্ত আছে। আপনার কোম্পানির নিবন্ধন ও যন্ত্রপাতি একই পাইলট এলাকায় থাকতে হবে। আর ইন্টারনেট অ্যাক্সেস (ISP) দিলে কেবল ওই এলাকাতেই সেবা দিতে পারবেন।
গতি বোঝা যায় অনুমতির সংখ্যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ প্রথম ১৩টি বিদেশি কোম্পানি পাইলটের অনুমতি পায়; ৩ জুন ২০২৬-এর মধ্যে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১৬৬-তে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীনে বিদেশি পুঁজির ৩,১০০-রও বেশি টেলিকম কোম্পানি কাজ করছিল। ব্যবহারিক শিক্ষা: নিবন্ধনের শহর বেছে নেওয়া এখন কৌশলগত সিদ্ধান্ত, কারণ সেটিই ঠিক করে আপনি কতটা শেয়ার রাখতে পারবেন।
নিশ্চিত নন আপনার খাত চীনে উন্মুক্ত কি না?
- ২০২৪ সালের তালিকা অনুযায়ী খাত যাচাই
- শেয়ার ও কোম্পানির কাঠামোর মূল্যায়ন
- আপনার প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল নির্বাচন

২০২৪ সংস্করণ ও উন্মুক্ততার ভূগোল
তালিকাটিকে চলমান লক্ষ্য হিসেবে দেখুন। প্রায় প্রতিবছর এটি সংশোধিত হয়, আর প্রতিটি সংশোধনে কিছু সীমাবদ্ধতা কমে। এই পরিবর্তনের দুটি অক্ষ: সময়, যা মাপা হয় সংস্করণে, আর স্থান, যা মাপা হয় বিশেষ অঞ্চলে।

২০২৪-এ কী বদলাল: ৩১-এর বদলে ২৯টি দফা
বর্তমান সংস্করণের সময়রেখা এ রকম। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন (NDRC) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (MOFCOM) এটি অনুমোদনের যৌথ আদেশে স্বাক্ষর করে (国家发展改革委 商务部令2024年第23号)। দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর, এটি 外商投资准入特别管理措施(负面清单)(2024年版) শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এটি ১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে কার্যকর, আর একই দিনে ২০২১ সংস্করণ অকার্যকর হয়ে যায়। দফা দুটি কমে ২৯-এ দাঁড়িয়েছে, আর বাদ পড়া দুটি দফাই ছিল উৎপাদন খাতের শেষ বাধা: প্রকাশনা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে আর চীনা নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার লাগবে না, এবং সুরক্ষিত ফর্মুলায় প্রথাগত চীনা ওষুধ তৈরিও আর আপনার জন্য নিষিদ্ধ নয়। ফলে পুরো উৎপাদন খাত উন্মুক্ত — এর প্রতিটি কাজ হয় উৎসাহিত, নয়তো অনুমোদিত শ্রেণিতে।
গুরুত্বপূর্ণ: এখনো কেউ কেউ ২০২০ বা ২০২১ সালের পাঠ ধরে চুক্তি সাজান, আর তার দাম চড়া। আগে থেকেই ১০০% উন্মুক্ত উৎপাদন খাতে “সাবধানতাবশত” গড়া যৌথ উদ্যোগ আপনাকে এমন অংশীদারের সঙ্গে কোম্পানি ভাগ করতে বাধ্য করে, যাকে আপনার কখনো দরকার ছিল না — নিয়ন্ত্রণও কমে যায়।
| বছর | দফা | আদেশ (文号) | কার্যকর | বিনিয়োগকারীরা কী পেলেন |
| ২০১৯ | ৪০ | 国家发展改革委 商务部令第25号 | ৩০.০৭.২০১৯ | শিপিং এজেন্সি, সিনেমা হল, পারফরম্যান্স এজেন্সি, শহুরে গ্যাস ও তাপ নেটওয়ার্ক, মূল্য সংযোজিত টেলিকমের একাংশ এবং তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে প্রবেশাধিকার |
| ২০২০ | ৩৩ | 国家发展改革委 商务部令第32号 | ২৩.০৭.২০২০ | সিকিউরিটিজ, ফিউচার্স ও জীবনবিমায় শেয়ারের সীমা উঠে যায় |
| ২০২১ | ৩১ | 国家发展改革委 商务部令第47号 | ০১.০১.২০২২ | যাত্রীবাহী গাড়ি ও স্যাটেলাইট টিভি সরঞ্জাম উৎপাদনে সীমা শেষ |
| ২০২৪ (কার্যকর) | ২৯ | 国家发展改革委 商务部令2024年第23号 | ০১.১১.২০২৪ | উৎপাদন খাত ব্যতিক্রম ছাড়াই উন্মুক্ত |
মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও হাইনানের জন্য ছোট তালিকা
ধরে নেবেন না যে একটি তালিকাই পুরো চীনে প্রযোজ্য। পাইলট মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলগুলো (FTZ) ২০২১ সালের নিজস্ব ২৭ দফার তালিকা মেনে চলে (আদেশ নং ৪৮, 国家发展改革委 商务部令第48号), যা ১ জানুয়ারি ২০২২ থেকে প্রযোজ্য। হাইনান মুক্ত বাণিজ্য বন্দরেরও নিজস্ব তালিকা আছে, ২০২০ সালের — এতেও ২৭টি দফা (আদেশ নং ৩৯, 国家发展改革委 商务部令第39号), যা ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ থেকে প্রযোজ্য। প্রতিটি তালিকা তার অঞ্চলের সীমানায় গিয়ে থামে। তাই দেশের বাকি অংশে এখনো সীমিত কোনো কাজ FTZ-এ বা হাইনানে আগেই উন্মুক্ত থাকতে পারে।

সীমান্ত পেরিয়ে দেওয়া সেবার জন্য আলাদা তালিকা আছে। হাইনান ২৬ আগস্ট ২০২১-এ ১১টি খাতে ৭০টি বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে পথ দেখায়। ২১ এপ্রিল ২০২৪ থেকে চীনের বাকি অংশেও ৭১ দফার জাতীয় তালিকা এবং FTZ-এর জন্য ৬৮ দফার তালিকা চালু হয়; দুটিরই ভিত্তি MOFCOM-এর ২০২৪ সালের ১ নম্বর আদেশ (商务部令2024年第1号)।
কিছু দরজা খোলে এমন পাইলটের মাধ্যমে, যার উল্লেখ কোনো তালিকায় নেই। স্টেম সেল ও জিন থেরাপি প্রযুক্তি এর ভালো উদাহরণ। জাতীয় পর্যায়ে এগুলো নিষিদ্ধ শ্রেণিতে; তবু সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে হাইনান এবং বেইজিং, সাংহাই ও গুয়াংডং-এর FTZ-এ বিদেশি পুঁজির কোম্পানিগুলো পণ্য নিবন্ধন ও উৎপাদনের জন্য এসব প্রযুক্তি উন্নয়ন ও প্রয়োগ করতে পারে।
এখান থেকেই সাধারণ ভুলের জন্ম। বিনিয়োগকারী পড়েন, কোনো পাইলট অঞ্চল কিছু একটা খুলে দিয়েছে — আর ধরে নেন পুরো চীন খুলে গেছে। তা নয়: অনুমতি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সঙ্গে বাঁধা এবং সেখানে নিবন্ধন করলেই মেলে। একটি প্রকল্পের সাফল্য প্রায়ই নির্ভর করে এই পার্থক্য চিনতে পারার ওপর।
অপ্রয়োজনীয় অংশীদার ছাড়াই চীনে কোম্পানি নিবন্ধনে প্রস্তুত?
- আইন মেনে WFOE বা যৌথ উদ্যোগ কাঠামো
- SAMR-এ আবেদনে সহায়তা
- প্রতিষ্ঠাতার নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষা

চীনের নেগেটিভ লিস্ট: কৌশলগত উপসংহার
নামের মধ্যেই একটি বৈপরীত্য লুকিয়ে আছে। বছরের পর বছর “নেগেটিভ” তালিকা দফা হারাচ্ছে — ৪০, ৩৩, ৩১, এখন ২৯। অন্যদিকে তার সঙ্গী, উৎসাহিত শিল্পের ক্যাটালগ, ক্রমাগত বড় হচ্ছে। ক্যাটালগের ২০২৫ সংস্করণ (国家发展改革委 商务部令第37号) ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১,৬৭৯টি দফা নিয়ে কার্যকর — আগের সংস্করণের চেয়ে ২০৫টি বেশি। নতুন দফাগুলো উন্নত উৎপাদন ও আধুনিক সেবার পাশাপাশি মধ্য, পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল এবং হাইনানকে ঘিরে। বাধা কমছে, প্রণোদনা বাড়ছে — আর দুই প্রবণতাই সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার দিকে।
- যে তালিকা পড়ছেন, তার তারিখ যাচাই করুন। কেবল ২০২৪ সংস্করণ (২৯ দফা) কার্যকর, আর এটি ১ নভেম্বর ২০২৪-এর আগের বাধ্যতামূলক কাঠামোগত শর্তগুলো বাতিল করে।
- নির্ধারণ করুন, সামনে নিষেধ নাকি শর্ত। নিষেধ আলোচনা শেষ করে দেয়; শর্ত হলো নকশার প্রশ্ন — আপনার শেয়ার, আইনি কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা।
- মানচিত্রটা দেখুন। জাতীয় পর্যায়ে বন্ধ খাত FTZ-এ বা হাইনানে খোলা থাকতে পারে — উল্টোটাও হতে পারে।
এভাবে পড়লে তালিকা আর দারোয়ান থাকে না, হয়ে ওঠে আপনার পরিকল্পনার প্রথম পাতা: নিষেধাজ্ঞা গোনার চেয়ে এটি বেশি দেখায় চীনের বাজার কোথায় এবং কোন শর্তে আপনার পুঁজি গ্রহণে প্রস্তুত। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৭০,৩৯২টি নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে, বৃদ্ধি ১৯.১% — প্রতিটির পেছনে আছেন এমন একজন বিনিয়োগকারী, যিনি এই মানচিত্র ঠিকভাবে পড়েছেন।
চীনে বিদেশি বিনিয়োগের নেগেটিভ লিস্ট নিয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
খাত তালিকায় না থাকলে অনুমোদনের বাড়তি ধাপ নেই। চীনা বিনিয়োগকারীর মতো একই শর্তে অবহিতকরণ পদ্ধতিতে এগোবেন, আর খাতভিত্তিক অনুমোদনের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষার বদলে লাগবে সাধারণ কয়েক সপ্তাহ। করণীয়: আবেদনের আগে আপনার ব্যবসার পরিধির ভাষা বর্তমান সংস্করণের সঙ্গে মিলিয়ে নিন, যাতে অজান্তে কোনো সীমিত দফায় না পড়েন।
দাম দিতে হয় পরিচালন নিয়ন্ত্রণে, শুধু শতাংশে নয়। ৫০% সীমায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না; যেখানে চীনা পক্ষের নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক, সেখানে আপনি সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার। করণীয়: আগেই যাচাই করুন শেয়ারহোল্ডার চুক্তি ও ভেটো অধিকার এই শেয়ারের ঘাটতি পূরণ করতে পারে কি না — না পারলে কাঠামো চালানো কঠিন হবে।
খুব সম্ভবত এটি পুরোনো তথ্য। ১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে উৎপাদন খাত পুরোপুরি উন্মুক্ত; ২০২০–২০২১ সংস্করণে ভরসা করলে অপ্রয়োজনীয় যৌথ উদ্যোগ আর নিয়ন্ত্রণ হারানো ছাড়া কিছু মিলবে না। করণীয়: কেবল ২০২৪ সংস্করণ (২৯ দফা) মানুন।
আপাতত সীমা উঠেছে শুধু পাইলটের ভেতরে: বেইজিং, সাংহাইয়ের লিংগাং নিউ এরিয়া ও পুডং, হাইনান এবং শেনজেন। কোম্পানির নিবন্ধন ও সার্ভার একই পাইলট এলাকায় রাখতে হবে, আর ইন্টারনেট অ্যাক্সেস (ISP) কেবল ওই এলাকার ভেতরেই দেওয়া যাবে। পাইলটের বাইরে সাধারণ ৫০% সীমা বহাল। করণীয়: স্থান বাছাইয়ের পর্যায়েই নিবন্ধিত ঠিকানা ও অবকাঠামো পাইলট এলাকায় পরিকল্পনা করুন।
FTZ ও হাইনানের তালিকা ছোট, তাই দেশের অন্যত্র এখনো সীমিত খাতগুলো সেখানে খোলা — সঠিক অঞ্চল বাছাই সরাসরি আপনার সুযোগ বাড়ায়। করণীয়: আপনার খাত জাতীয় তালিকার সঙ্গে নয়, নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংক্ষিপ্ত তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
Hongkong
China