আপনার পণ্য চীনের উৎপাদন লাইন থেকে নামছে চেনা লোগো গায়ে নিয়ে — অথচ আইনগতভাবে সেই নামটি সেখানে বহু আগেই অচেনা কারও নামে নিবন্ধিত। অন্যের ব্র্যান্ডের পেছনে যারা ওত পেতে থাকে, তাদের কাছে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; এটি রীতিমতো একটি ব্যবসায়িক ছক।
চীন এখনও বিশ্বের প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র এবং সবচেয়ে বড় ভোক্তাবাজারগুলোর একটি — বাংলাদেশের জন্য তো এটি শীর্ষ আমদানি-উৎসও বটে। কিন্তু আপনার ব্র্যান্ডের ওপর আইনি ঢাল কাজ করতে শুরু করে কেবল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর। এই ধাপটি এড়িয়ে গেলে একচেটিয়া অধিকার চলে যাবে তার কাছে, যে আগে আবেদন করেছে; তখন পরিচিত লোগোটি অন্যের সম্পদে পরিণত হয়, আর আপনার নিজের পণ্যই কাগজে-কলমে নকল হয়ে দাঁড়ায়। নিচে ভাবনা থেকে সনদ পর্যন্ত বাস্তব পথনির্দেশ: চীন জাতীয় মেধাস্বত্ব প্রশাসনে (CNIPA) ব্র্যান্ড সুরক্ষা আসলে কীভাবে চলে, আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি কোথায় হোঁচট খান, আর পুরো পথে খরচ কেমন দাঁড়ায়।
চীনে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন কেন দরকার, কার দরকার
চীনে ব্র্যান্ডের ওপর অধিকার নিশ্চিত করা কোনো দাপ্তরিক তালিকায় টিক দেওয়ার কাজ নয়। এটি আপনার বিতরণ চ্যানেল, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি এবং নিজের নামে পণ্য বিক্রির মৌলিক অধিকারের ওপর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ।

অনিবন্ধিত ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করার ঝুঁকি
যতক্ষণ কোনো চিহ্ন আইনত কারও নয়, ততক্ষণ যে কেউ আপনার আগে পৌঁছে যেতে পারে — আপনার চুক্তিবদ্ধ কারখানা, কোনো পরিবেশক, কিংবা একেবারে অচেনা কেউ। চীনা আইন দাঁড়ায় সেই পক্ষে যে আগে আবেদন করেছে, আর আপনার জন্য তার মানে ঝামেলার একটি ধারাবাহিকতা:
- “এখন অন্যের হয়ে যাওয়া” লোগো বহন করা চালান রপ্তানির সময় কাস্টমসে আটকে যেতে পারে;
- নতুন অধিকারধারী দেশের ভেতরে ওই পণ্যের বিক্রি নিজের হাতে নিয়ে নেয়;
- একই চিহ্ন অন্য দেশেও নিবন্ধন করিয়ে সে আপনার রপ্তানিপথ বন্ধ করে দিতে পারে;
- আপনারই চিহ্ন লাগানো নকল পণ্য দেশের বাজারে ফিরে আসতে পারে।
চিত্রনাট্যটি বেদনাদায়কভাবে চেনা: উৎপাদক ক্রেতার চলতি ব্র্যান্ডটি লক্ষ্য করে, নিঃশব্দে নিজের নামে নিবন্ধন করিয়ে নেয়, তারপর হয় শর্ত কঠিন করে বসে, নয়তো মূল ব্র্যান্ড-মালিককেই সরিয়ে দেয়। পরে এই গিঁট খোলা দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং সবসময় সফলও নয়।
এখানে একটি ভুল ধারণা আলাদা করে ভাঙা দরকার। বাংলাদেশে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে (DPDT) নিবন্ধন আপনার চিহ্নকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডেই সুরক্ষা দেয় — চীনে নয়। ট্রেডমার্ক অধিকার ভূখণ্ডভিত্তিক; ঢাকায় পাওয়া সনদ CNIPA-র সামনে কোনো অগ্রাধিকার তৈরি করে না।
কখন নিবন্ধন জরুরি, কখন অপেক্ষা করা যায়
উৎপাদন চীনে হলে এবং নিজের ব্র্যান্ডে বিক্রি হলে — চীনের ভেতরে হোক বা বাইরে — দেরি করার সুযোগ নেই। উল্টোদিকে: পণ্যে যদি আপনার কোনো চিহ্নই না থাকে এবং দেশের বাজারের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনাও না থাকে, তবে নিবন্ধন পিছিয়ে দেওয়া চলে — তবে ঝুঁকিটি নজরে রাখতে হবে।
দিকনির্দেশক নিয়ম। পণ্যে নিজের ব্র্যান্ড বসান এবং অন্তত কারখানা হিসেবেও চীনের ওপর নির্ভরশীল? চালান শুরুর আগেই আবেদন করুন, প্রথম বিরোধ বাধার পরে নয়।
“First-to-file” নীতি: চীনা ব্যবস্থার মূল সূত্র
এখানেই সেই নির্ণায়ক পার্থক্য, যা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ধরেই নেয় অন্যরকম হবে। চীনে অগ্রাধিকার নির্ধারিত হয় ব্র্যান্ড কত দিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে তা দিয়ে নয়, বরং আবেদনের তারিখ দিয়ে: যার আবেদন CNIPA-তে আগে পৌঁছেছে, অধিকার তারই। পরিচিতি, বছরের পর বছরের বিক্রি কিংবা ব্র্যান্ডের ইতিহাস — এর কোনোটিই নিজে থেকে কোনো সুবিধা দেয় না।

তাই সবচেয়ে বড় বিপদ হলো দ্বিধা। আপনি যখন ভাবছেন নিবন্ধন করাবেন কি না, তখন অন্য কেউ আবেদন করে ফেলে, আর আইন দাঁড়ায় তার পাশে। এগিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই।
প্যারিস কনভেনশন অনুযায়ী অগ্রাধিকার অধিকার
এই নিয়মে একটি বৈধ ফাঁক রাখা আছে। প্রথম আবেদনটি যদি প্যারিস কনভেনশনের সদস্য কোনো রাষ্ট্রে দাখিল করা হয় (বাংলাদেশ ও চীন উভয়ই বহুদিন ধরে এর পক্ষ), তাহলে ছয় মাসের একটি জানালা খুলে যায়, যার মধ্যে CNIPA-র কাছে আপনার প্রথম আবেদনের তারিখ থেকে অগ্রাধিকার দাবি করা যায়।
একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ দিই: জুলাই মাসে কাগজপত্র জমা পড়ল দেশের নিবন্ধন কর্তৃপক্ষে; সেপ্টেম্বরে অচেনা কেউ চীনে কাছাকাছি একটি চিহ্ন দখল করে নিল; আর আপনি চীনে আবেদন করলেন কেবল অক্টোবরে। অগ্রাধিকারের দাবি তুলে আপনি আপনার চীনা তারিখটিকে জুলাইয়ে ফিরিয়ে আনেন — ব্র্যান্ডটি আপনারই থাকে। এই সুবিধা কাজে লাগাতে আবেদনের সঙ্গে আলাদা অগ্রাধিকার-আবেদন এবং প্রথম আবেদনের প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হয়।
কোন চিহ্ন নিবন্ধনযোগ্য
চীনে নানা ধরনের চিহ্ন সুরক্ষা পায়, প্রতিটির নিজস্ব শর্ত আছে — আর বিদেশি ব্র্যান্ডের জন্য এর সঙ্গে যুক্ত হয় একটি ভাষাগত বিষয়।

ট্রেডমার্কের ধরন ও শর্ত
নিবন্ধন করানো যায়:
- শব্দ চিহ্ন — নাম, স্লোগান, কিংবা অক্ষর ও সংখ্যার সমন্বয়;
- চিত্র চিহ্ন — লোগো, গ্রাফিক প্রতীক, নকশা;
- সম্মিলিত চিহ্ন — গ্রাফিক উপাদানসহ লেখা;
- ত্রিমাত্রিক চিহ্ন — পণ্যের বা মোড়কের স্বতন্ত্র আকৃতি;
- শব্দধ্বনি চিহ্ন — বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সুর বা অডিও সংকেত।
নির্ণায়ক শর্ত হলো স্বাতন্ত্র্য: চিহ্নটিকে আপনার পণ্যকে তাকের বাকি পণ্য থেকে আলাদা করতে হবে। গন্ধ চীনে নিবন্ধনযোগ্য নয়, আর কিছু পণ্যশ্রেণি নিবন্ধনের জন্য বন্ধ। আবেদনের আগে চিহ্নটি CNIPA-র ডেটাবেসে যাচাই করা হয় — উদ্দেশ্য, অভিন্ন বা বিভ্রান্তিকরভাবে কাছাকাছি কোনো চিহ্নের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানো।
চীনা অক্ষরে ট্রেডমার্ক
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য ফাঁদটি এখানেই: ল্যাটিন হরফের সংস্করণের সুরক্ষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার চীনা-অক্ষর রূপে পৌঁছায় না। আপনার চিহ্নের “চীনা” সংস্করণটি বাইরের কেউ নিজের নামে নিয়ে নিতে পারে। ব্র্যান্ডের চীনা রূপান্তর তিনভাবে হয়: অর্থ ধরে (Apple হয়েছে 苹果, অর্থাৎ “আপেল”), ধ্বনি ধরে (McDonald’s — 麦当劳, Siemens — 西门子, Audi — 奥迪), কিংবা দুটি মিলিয়ে (Coca-Cola — 可口可乐, যা পড়লে দাঁড়ায় “সুস্বাদু ও আনন্দময়”)।
শিক্ষণীয় নজিরের অভাব নেই। Ralph Lauren-কে চীনে একসময় “তিন পায়ের ঘোড়া” বলে ডাকা হতো, কারণ জনসাধারণ নামটির প্রতিবর্ণীকরণ নিজেরাই করে নিয়েছিল। আর New Balance-এর সেই মামলা, যা চীনা সংস্করণ 新百伦 তৃতীয় পক্ষ আগে নিবন্ধন করিয়ে নেওয়ায় শুরু হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটিকে কয়েক মিলিয়নের ক্ষতিপূরণ গুনতে হয়েছিল। শিক্ষাটি স্পষ্ট: ব্র্যান্ডের চীনা নামটি বাজার বা প্রতিযোগীর হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিজেই তৈরি করুন এবং নিজেই নিবন্ধন করান।
“চীনা অক্ষর বর্ণমালা নয়, যেখানে একটি চিহ্ন ল্যাটিন থেকে বাংলায় প্রায় অবিকৃত অবস্থায় চলে আসে। ব্র্যান্ডের চীনা নাম সচেতনভাবে নকশা করতে হয় এবং মূল চিহ্নের সঙ্গেই নিবন্ধন করাতে হয় — নইলে আপনি ফাঁক রেখে যাচ্ছেন তার জন্য, যে আপনার বদলে সেটি নিবন্ধন করিয়ে নেবে,” চীনে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এ কথাই জোর দিয়ে বলেন।
নাইস শ্রেণি ও উপ-শ্রেণি: তালিকায় ভুল এড়াবেন কীভাবে
ভিত্তি একই নাইস শ্রেণিবিন্যাস, তবে একটি চীনা সংযোজনসহ: সেখানে শ্রেণিগুলো আবার উপ-শ্রেণিতে (সাব-ক্লাস) ভাগ হয়। আবেদনে শ্রেণি, উপ-শ্রেণি এবং প্রতিটি পদের নির্দিষ্ট বর্ণনা লিখতে হয়। এই ধাপের ভুল সরাসরি সুরক্ষা দুর্বল করে দেয় — চিহ্নটি এমন কিছুর জন্য সুরক্ষিত হয়ে বসতে পারে, যা আপনি আসলে বিক্রিই করেন না।
ধরা যাক সকালের নাশতাসহ থাকার ব্যবস্থা দেয় এমন ছোট হোটেলের একটি চেইন: তারা ৪৩ নম্বর শ্রেণি (“খাদ্য সরবরাহ ও অস্থায়ী আবাসন সেবা”) বেছে নেয়, উপযুক্ত উপ-শ্রেণি বাছাই করে এবং সুনির্দিষ্ট পদ লেখে — যেমন “আবাসন ভাড়া দেওয়া”। সঠিক উপ-শ্রেণি ছাড়া, আপাতদৃষ্টিতে কাছাকাছি একটি সেবা সহজেই সুরক্ষার বাইরে থেকে যায়।
সতর্কতা। বিদেশি আবেদনকারীদের সবচেয়ে সাধারণ ও সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল হলো তাড়াহুড়ো করে তৈরি পণ্য ও সেবার তালিকা। উপ-শ্রেণিগুলো এজেন্টের সঙ্গে আগেই মিলিয়ে নিন, প্রত্যাখ্যানের চিঠি হাতে আসার পর ফাঁক মেরামত করতে বসবেন না।
চীনে আপনার ব্র্যান্ড সুরক্ষিত করতে চান?
- ট্রেডমার্ক প্রাপ্যতা যাচাই
- নিস শ্রেণি নির্বাচন
- নিবন্ধনের সম্ভাবনা যাচাই

দুটি পথ: জাতীয় আবেদন ও মাদ্রিদ ব্যবস্থা
চীনে চিহ্ন নিশ্চিত করার পথ দুটি — নথিপত্র সরাসরি CNIPA-তে দাখিল করা, অথবা মাদ্রিদ প্রোটোকলের মাধ্যমে আপনার চলমান আন্তর্জাতিক নিবন্ধনকে চীন পর্যন্ত বিস্তৃত করা। দুই ক্ষেত্রেই, চীনে যার ব্যবসায়িক ঠিকানা নেই, তাকে কাজটি করাতে হয় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্রেডমার্ক এজেন্টের মাধ্যমে।
| মানদণ্ড | জাতীয় পথ (CNIPA) | মাদ্রিদ ব্যবস্থা (WIPO-র মাধ্যমে) |
|---|---|---|
| শুরুতে যা লাগে | চীনে ব্র্যান্ড সুরক্ষার অভিপ্রায়ই যথেষ্ট | দাখিল করা আবেদন বা দেশে বিদ্যমান নিবন্ধন |
| কোথায় দাখিল | এজেন্টের মাধ্যমে সরাসরি CNIPA-তে | নিজ দেশ থেকে, নির্দিষ্ট দেশের তালিকায় চীনসহ |
| উপ-শ্রেণিতে নমনীয়তা | বেশি: তালিকা স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী সাজানো যায় | কম — মূল আবেদনের পেছনে চলে |
| কখন উপযুক্ত | লক্ষ্য যখন কেবল চীনা বাজার | একসঙ্গে একাধিক দেশে শুরু করলে |
| খরচ | একটিমাত্র এখতিয়ার হলে বেশি স্বচ্ছ | একটি আবেদন একাধিক দেশ ঢাকলে বেশি সাশ্রয়ী |
চীন যখন প্রধান বা একমাত্র লক্ষ্য, তখন জাতীয় পথই শ্রেয়। মাদ্রিদ ব্যবস্থা নিজের মূল্য দেখায় তখন, যখন আপনি একসঙ্গে কয়েকটি বাজারে নামছেন এবং পুরো পোর্টফোলিও এক জায়গা থেকে সামলাতে চান।
ধাপে ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া
মোটা দাগে পথটি তিন ভাগে বিভক্ত: চিহ্ন যাচাই, নথি প্রস্তুত ও দাখিল, এবং পরীক্ষা শেষে সনদ প্রাপ্তি। এক এক করে দেখা যাক।

ধাপ ১. CNIPA ডেটাবেসে অনুসন্ধান
শুরু হয় CNIPA-র নিবন্ধন বইয়ে অনুসন্ধান দিয়ে — উদ্দেশ্য, অভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর চিহ্নগুলো আগেভাগেই বাদ দেওয়া। চীনের নিবন্ধন বই বিশাল, তাই বাধা নিয়মিতই সামনে আসে। সংঘর্ষ পাওয়া গেলে চিহ্নটিকে ঘষামাজা করা হয়: কোনো একটি বিবরণ বদলানো, স্বতন্ত্র উপাদানটিকে জোরালো করা, তালিকা সংশোধন করা। এই যাচাইয়ে কয়েকটি কর্মদিবস যায়, কিন্তু তা বাঁচিয়ে দেয় সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটুকু — সেই বাজেট ও সময়, যা নইলে প্রত্যাখ্যানের পেছনে গলে যেত।
ধাপ ২. নথি প্রস্তুত ও আবেদন দাখিল
CNIPA-র জন্য প্রস্তুত করা নথিপত্র সাধারণত এমন হয়:
- চীনা ভাষায় লেখা আবেদনপত্র;
- চিহ্নের স্পষ্ট ও যথেষ্ট রেজোলিউশনের ছবি;
- উপ-শ্রেণির সঙ্গে সংযুক্ত পণ্য ও সেবার তালিকা;
- আবেদনকারীর নথি (প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের উদ্ধৃতি বা পাসপোর্টের কপি) অনুবাদসহ;
- প্রতিনিধির জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি;
- অগ্রাধিকার দাবি করলে প্রথম আবেদন সংক্রান্ত কাগজপত্র।
বিদেশি আবেদনকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছান কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্টের মাধ্যমে, এবং সমস্ত নথি জমা পড়ে চীনা ভাষায় — চীনা ভাষাভাষী ও দক্ষ প্রতিনিধি ছাড়া এই প্রক্রিয়া শেষ করা যায় না।
ধাপ ৩. পরীক্ষা, প্রকাশনা ও সনদ
এরপর CNIPA দুটি পরীক্ষা চালায়: আনুষ্ঠানিক (নথি পূর্ণ ও নির্ভুল কি না) এবং মূল পরীক্ষা (স্বাতন্ত্র্য এবং পূর্ববর্তী চিহ্নের সঙ্গে সংঘর্ষ)। বাধা না থাকলে চিহ্নটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয় এবং তৃতীয় পক্ষের আপত্তির জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়। পূর্ণ বা আংশিক — যেকোনো প্রতিকূল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। আপত্তি না এলে আবেদনকারী ইলেকট্রনিক সনদ পান: এটি একচেটিয়া অধিকার দশ বছরের জন্য নিশ্চিত করে এবং পরে নবায়নযোগ্য।
খরচ ও সময়
চূড়ান্ত অঙ্কটি নির্ভর করে তালিকায় থাকা শ্রেণি ও পদের সংখ্যার ওপর এবং আইনি সহায়তার পরিসরের ওপর। সময়সীমা সাধারণ ও দ্রুততর — দুই ভাগে।

| খাত | আনুমানিক |
|---|---|
| CNIPA-র সরকারি ফি | শ্রেণিপ্রতি ২৭০ CNY (ইলেকট্রনিক আবেদন, ১০টি পদ পর্যন্ত); কাগজে ৩০০ CNY — প্রায় ৩৮–৪২ USD |
| অতিরিক্ত পদ | অন্তর্ভুক্ত দশটির বেশি প্রতিটি পদে ২৭–৩০ CNY বাড়তি |
| এজেন্ট ফি | জটিলতা অনুযায়ী প্রায় ৫০০ USD থেকে |
| শ্রেণিপ্রতি মোট খরচ | বাস্তবে ফি ও মৌলিক সেবা মিলিয়ে প্রায় ১৮০–৩০০ USD |
| নিবন্ধনের সময় (স্বাভাবিক) | প্রায় ১২–১৮ মাস |
| দ্রুততর প্রক্রিয়া | বাড়তি ফিসহ প্রায় ৬–৯ মাস |
| সুরক্ষার মেয়াদ | ১০ বছর, নবায়নযোগ্য |
গুরুত্বপূর্ণ। উপরের সংখ্যাগুলো উন্মুক্ত সূত্র থেকে নেওয়া কেবল একটি ইঙ্গিত, সরকারি মূল্যতালিকা নয়। ফি পণ্যতালিকার সঙ্গে যুক্ত, তাই আবেদনের আগে এজেন্টের কাছ থেকে হালনাগাদ প্রাক্কলন নিন — কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা চাইলে যে বাড়তি খরচ হতে পারে তা-সহ।
নিবন্ধনের পর: কাস্টমস রেকর্ডাল ও চিহ্নের সুরক্ষা
সনদ পাওয়া মানে বিষয়টির সমাপ্তি নয়, বরং প্রতিরক্ষার সূচনা। সীমান্তেই নকল পণ্য আটকাতে চিহ্নটি চীনা কাস্টমসের নিবন্ধনে তোলা হয়: এর ভিত্তিতে কাস্টমস আপনার চিহ্নবাহী চালান আটকে দিতে পারে, রপ্তানির পথে থাকা চালানও। একই সঙ্গে চিহ্নটির ওপর নজর রাখতে হবে এবং সত্যিকার অর্থে ব্যবহারও করতে হবে — টানা তিন বছরের নিষ্ক্রিয়তা যেকোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য অব্যবহারজনিত বাতিলের পথ খুলে দেয়, আর প্রমাণের দায় মালিকের ওপরেই বর্তায়। তাই ব্যবহারের প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন: চালানপত্র, ক্যাটালগ, বিজ্ঞাপন সামগ্রী।

২০১৯ সালের সংস্কারটিও মাথায় রাখা দরকার: চীনা কর্তৃপক্ষ অসৎ উদ্দেশ্যে নিবন্ধনের পথে স্পষ্ট বাধা দিয়েছে এবং আপত্তি ও “দখল হয়ে যাওয়া” চিহ্নকে চ্যালেঞ্জ করার ভিত্তি দুটোই প্রসারিত করেছে। সৎ মালিকদের জন্য এতে কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ হয়েছে — তবু “যে আগে আবেদন করেছে, অধিকার তারই” নীতিটি পুরোপুরি বহাল।
CNIPA-তে আবেদন করতে প্রস্তুত?
- সম্পূর্ণ ট্রেডমার্ক নিবন্ধন
- সনদ পাওয়া পর্যন্ত সহায়তা
- নকল থেকে ব্র্যান্ড রক্ষা

তাইওয়ান, ম্যাকাও ও হংকং: আলাদা নিবন্ধন কেন লাগে
মূল ভূখণ্ডের চীনে অর্জিত সুরক্ষা তাইওয়ান, ম্যাকাও বা হংকং পর্যন্ত পৌঁছায় না — এর প্রতিটি অঞ্চল নিজস্ব আইনের কাঠামোয় চলে এবং নিজস্ব নিবন্ধন বই রাখে। তাই ব্র্যান্ডকে সব দিক থেকে ঢাকার একটিই উপায়: এমন প্রতিটি এখতিয়ারে আলাদা আবেদন।
হংকংয়ে, উদাহরণস্বরূপ, আবেদন যায় স্থানীয় মেধাস্বত্ব বিভাগে এবং প্রক্রিয়া চলে নিজস্ব বিধি ও নিজস্ব সময়সীমা মেনে। যে প্রতিষ্ঠানের হংকংয়ে কোনো কাঠামো আছে কিংবা যে বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেন হংকংয়ের মধ্য দিয়ে চালায়, তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হলো দুটি অঞ্চলই একসঙ্গে বন্ধ করা — মূল ভূখণ্ড ও হংকং — যাতে প্রতিরক্ষায় কোনো ফাঁক না থাকে।
চীনা ব্যবস্থা দ্রুতগামীদের পক্ষে কাজ করে: চিহ্ন পায় সে-ই, যে আগে আবেদন করেছে; যে দীর্ঘতম সময় ব্যবহার করেছে সে নয়। সুরক্ষা সত্যিই কাজ করতে হলে তিনটি শর্ত একসঙ্গে মিলতে হবে — ভেবেচিন্তে তৈরি চীনা ব্র্যান্ড নাম, সঠিক উপ-শ্রেণিসহ নিখুঁত তালিকা, এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্টের সহায়তা। এরপর পথটি চেনা: CNIPA ডেটাবেসে অনুসন্ধান, আবেদন, পরীক্ষা এবং দশ বছরের সনদ; তারপর কাস্টমস রেকর্ডাল ও ব্যবহারের তদারকি। এখানে দেরি করা প্রায় সবসময়ই প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল — তাই আগেভাগেই আবেদন করুন, অন্য কেউ করে ফেলার আগে।
সের্গেই কনন (Sergey Konon), মেধাস্বত্ব বিশেষজ্ঞ
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
না। বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি — উভয়েই আবেদন করতে পারেন, তবে কঠোরভাবে চীনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্রেডমার্ক এজেন্টের মাধ্যমে; বিদেশি আবেদনকারী সরাসরি CNIPA-তে যান না।
না, আইনগতভাবে এ দুটি স্বতন্ত্র চিহ্ন। চীনা অক্ষরের সংস্করণটি আলাদাভাবে তৈরি ও নিবন্ধন করাতে হয়, নইলে তা তৃতীয় পক্ষের দখলে চলে যেতে পারে।
টানা তিন বছর ব্যবহার না করলে যেকোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ অব্যবহারজনিত বাতিলের আবেদন করতে পারে। তাই চিহ্নটি বাস্তবে ব্যবহার করা এবং তার প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি — প্রমাণের দায় মালিকেরই।
সনদ নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১০ বছর কার্যকর থাকে, এরপর যথাসময়ে আবেদন ও ফি পরিশোধ করলে প্রতি দশ বছর অন্তর নবায়ন করা যায়।
না। হংকং, ম্যাকাও ও তাইওয়ান আলাদা এখতিয়ার, প্রতিটিতে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক আবেদন করতে হয়।
Hongkong
China